নববর্ষের বিরানী খেয়ে কক্সবাজারে অর্ধ শতাধিক ছাত্র অসুস্থ
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও হোস্টেলে অবস্থানরত অর্ধ শতাধিক ছাত্র বিরানী খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আজ মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।
ঈদগাঁও বাজারের ডিসি সড়কের পূর্বানী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের বিরানীতে বিষক্রিয়ার কারণে প্রশাসন হোটেলটি সিলগালা করে দিয়েছে।
জানা গেছে, ইংরেজী নববর্ষ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের হোস্টেলের ছাত্ররা ক্ষুদ্র আয়োজন করে। এ আয়োজনে প্রত্যেক ছাত্রদের জন্য একটি করে সর্বমোট ৬৫টি বিরানীর প্যাকেট উক্ত হোটেলে অর্ডার দেয়া হয়। এদিন তারা আনন্দফূর্তি করে। পরদিন সবাই একেক করে অসুস্থতা বোধ করলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। কিছুক্ষণ পরই অর্ধশতাধিক ছাত্রকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ডায়াবেটিস কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি চাউর হলে হোটেল মালিক বাবু উত্তম রায় পূলক ধামাচাপা দিতে মোটা অংক নিয়ে মাঠে নামেন বলে অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন দ্রুত ওই হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি অসুস্থ ছাত্রদের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত হোটেলে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেন।
ইউএনও জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে।
অসুস্থ ছাত্র মুবিন, মোবারক, আয়মন, ফয়সালসহ অনেকে অভিযোগ করেন, 'দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেল থেকে আমরা খাওয়া দাওয়া করে আসছি। সে সুবাদে ৬৫টি বিরানীর প্যাকেটের অর্ডার দেই। সরলতার সুযোগে হোটেল কর্তৃপক্ষ বাসী বিরানী সরবরাহ করে। এগুলো খেয়ে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ' এদিকে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা খুরশিদুল জান্নাত জানান, বিষয়টি অনাকাঙ্খিত, তারপরও আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। হোটেল মালিক উত্তম রায় পুলকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে আগুন দিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জয়নব বেগম এ আদেশ দেন।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা দায়রা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।
২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৮ জন মারা যান। আহত হন আরো অন্তত ২০ যাত্রী।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামী করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০ জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করে পুলিশ।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে বিস্ফোরক ও হত্যা আইনে করা এ মামলায় হুকুমের আসামী করা হয়।
মামলার ৭৮ আসামীর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। আর পাঁচজনকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
কুমিল্লা আদালতে খালেদা জিয়াসহ আরো ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ অভিযোগপত্র দেন।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে খালেদা জিয়াসহ বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতে ২০ জন আসামী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার একটি বিচারিক আদালত।
গত বছরের ৬ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইব্রাহীম।
‘পদ্মাবতী’ থেকে ছবির নাম ‘পদ্মাবত’
অনলাইন ডেস্ক : এবার 'পদ্মাবতী' বিতর্কের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। কিছু দৃশ্য বাদ দিলে এবং ছবির নাম বদলালে ইউ/এ সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হবে সঞ্জয় লীলা বানসালীর এই ছবিকে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের সেন্সর বোর্ড সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর একটি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেন্সর বোর্ড বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। জানা গেছে, এই ছবির কিছু অংশের পরিবর্তন করে তবেই মুক্তি দেয়া যাবে। পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ছবির নাম। ‘পদ্মাবতী’ থেকে ছবির নাম ‘পদ্মাবত’ করার সুপারিশ করেছে সেন্সর বোর্ড। মালিক মহম্মদ জয়শীর বিখ্যাত কবিতা ‘পদ্মাবত’ যার ওপর নির্ভর করে ছবিটি তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় পরিবর্তন 'ঘুমর' গানটিতে করার নির্দেশ দিয়েছে সিবিএফসি। ওই গানে যে ভাবে রানি পদ্মাবতীর নাচ দেখানো হয়েছে তা পরিবর্তন করতে হবে। এর পরই কেবল মুক্তি পাবে বহুল আলোচিত এই ছবিটি। এতে অভিনয় করেছেন দিপীকা পাড়ুকোন, রণবীর সিং এবং শহীদ কাপুর। সূত্র: আনন্দবাজার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে ডাক্তারকেই আমরা উপজেলায় নিয়োগ দিচ্ছি, যেই আমরা তাদের উপজেলায় পাঠাচ্ছি, তারাই সেখানে না থেকে যে কোনোভাবে কায়দা করে ঢাকায় এসে বসে থাকে। তাহলে তাদের সরকারি চাকরির দরকার কি? জেলা বা উপজেলা হাসপাতালে নিয়োগ পেয়ে যেসব ডাক্তার সেখানে যান না, তাদেরকে আর সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হবে।
বৃহস্পতিবার গণভবনে বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ডাক্তাররা নিয়োগ পাওয়ার পর মফস্বলে পোস্টিং হলেই ঢাকায় চলে আসেন। এখন অনেক প্রাইভেট ক্লিনিক আছে, তাতে কোথাও যদি তারা চাকরি পেয়ে যায়, তাহলে খুব ভালো কথা। এভাবে চলে আসার ইচ্ছা থাকলে তাদের চাকরি ছেড়ে ঢাকার প্রাইভেট ক্লিনিকে চাকরি নেয়ায় ভাল। এমন হলে ট্রেইনিং দিয়ে আমরা নতুন নিয়োগ দেবো।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গত এক দশকে দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি হলেও চিকিৎসকদের মফস্বল শহর বা উপজেলা এবং গ্রাম এলাকায় না থাকার প্রবণতা রোধ করা যায়নি। বিশেষ করে দূর গ্রামের হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসকশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকে। এমন অভিযোগও আছে, বেতন হওয়ার আগে এলাকায় গিয়ে উপস্থিতি খাতায় সই করে আসেন তারা।
শেখ হাসিনা বলেন, কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এখন পড়াশোনা করছেন। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে আমার ওখানে দেবো, কিছু ট্রেইনিং করবে, কিছু সার্ভিস দেবে, আরেক জায়গায় যাবে, এটা কোনো বিষয়ই না, এটা নিয়ে মনে হয় এতটা মাথা ঘামানোর প্রয়োজনও নাই।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য ট্রাস্ট গঠন করা হবে। তা হলে কেউ ইচ্ছে করলেই এটি আর বন্ধ করতে পারবে না। এতে করে ভবিষ্যতেও জনগণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
এই প্রশিক্ষণের জন্য একটি তহবিল করার কথাও জানানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নইলে অন্য কেউ সরকারে আসলে এই উদ্যোগ তারা বন্ধ করে দেবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়ার উদারহণ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এখানে চিকিৎসা পেলে সবাই নৌকায় ভোট দেবে, আমাদেরকে কেউ ভোট দেবে না- এই কথাটা বলে (কমিউনিটি ক্লিনিক) বন্ধ করে দিয়েছিল। এ রকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেউ, এটা চিন্তাও করা যায় না। কেবল এই একটা ব্যাপারে না, আরো বহু ব্যাপারে এই রকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বিএনপি-জামায়াত নিয়ে গেছে যার জন্য আমাদের অনেক খেসারতও দিতে হয়েছে।











