বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এই পার্লামেন্ট রেখে নির্বাচন হবে না। আর হাসিনার অধীনেও নির্বাচন হবে না। আমরা বিএনপি, নির্বাচনী দল। আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না, নির্বাচন করব আমরা।’
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করেন। ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
বেলা দুইটার সময় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের মূল ফটক তালাবদ্ধ ছিল। মিলনায়তন বরাদ্দ পাওয়ার পরেও সেটি তালাবদ্ধ থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর বেলা তিনটার দিকে দলের নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিএনপির নেতারা বলেন, তালা না খুললে তাঁরা সেখান থেকে যাবেন না।
এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া মিলনায়তনের সামনে এসে উপস্থিত হন। তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় খালেদা জিয়া তাঁর গাড়িতে বসে অপেক্ষা করছিলেন। মিলনায়তন বরাদ্দ পাওয়ার পরও কেন তা খুলে দেওয়া হয়নি, বিষয়টি জানতে চান খালেদা জিয়া। এরপর তিনি তাঁর গাড়িতে অবস্থান করেন। দলীয় প্রধানের অপেক্ষার সময় দলের নেতারা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির এক নেতা বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে মাইকে ঘোষণা করেন যে কর্তৃপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মানে মিলনায়তনের তালা খুলে দিয়েছে। এরপর দলের নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনে প্রবেশ করে। বিকেল পাঁচটা ৪০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া আলোচনা সভার মঞ্চে যোগ দেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই তাদের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না। আজকে পার্লামেন্ট বলে কিছুই নেই। হাসিনারা ক্ষমতায় থাকার জন্য পার্লামেন্ট রেখে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করেছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এরা কেউ ভোটই পায়নি। এরা পার্লামেন্টের মেম্বার থাকার যোগ্য নয়। কাজেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে। আমরা নির্বাচন করব। কিন্তু সে নির্বাচনটি হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। হাসিনার অধীনে নয়। সেই নির্বাচনই এই দেশে হবে। কারণ, সারা পৃথিবী বুঝে গেছে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না। সেটা মানুষ বুঝেছে।’
আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা বাঁচতে পারব না
দেশের পরিবর্তন আনতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা আর বাঁচতে পারব না। সে জন্য যে করেই হোক আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। অন্য কোনো সরকার আসতে হবে। জনগণের যারা কল্যাণ চায়, ভালো চায়—তাদের সরকার মানুষ দেখতে চায়। সে জন্যই মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। কেন বলছি, প্রথম কথা—হাসিনার অধীনে আমরা যতগুলো নির্বাচন দেখেছি, কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়েছে কেউ বলবে না। বিদেশিরাও বলবে না। হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এবং সুষ্ঠু হবেও না ভবিষ্যতে।’
এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সবকিছু চলছে
দেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছায় চলছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, আজ এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সবকিছু চলছে বলেই কোনো কিছু চলছে না। দেশ আজ অচল। দেশ আজ সামনের দিকে না গিয়ে পেছনের দিকে যাচ্ছে। মানুষের অবক্ষয় হচ্ছে। এর জন্য দায়ী হলো এই আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার এই দেশে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে, গুম-খুন করেছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের জানমালের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ। এই দলকে দেশের মানুষ কখনো বিশ্বাস করে না। জনগণের ভোটে তারা কখনো ক্ষমতায় আসেনি। কারও না কারও ঘাড়ে ভর দিয়ে, পা দিয়ে তারা ক্ষমতায় বসেছে। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় বসেনি। সে জন্য তাদের ভয়। এ জন্যই তারা বিএনপিকে ভয় পায়। বিএনপি বারবার জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে গেছে।
এমন অবস্থা, লবণ দিয়ে ভাত খাওয়ারও উপায় নেই
আওয়ামী লীগের ‘পকেটের মধ্যে’ উন্নয়নের জোয়ার বইছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে উন্নয়নের কোনো জোয়ার নেই। গ্রাম দেশে যান, মানুষের কোনো কাজ নেই। অভাব-অনটন-দুঃখ। জিনিসপত্রের দাম এতই বেশি। প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি।...২০১৪ সালে তো কোনো ইলেকশন হয়নি, কাজেই তখন আর ভোটের জন্য মানুষের কাছে যাওয়ারও দরকার হয়নি, বলারও দরকার হয়নি। এই আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে বলেছিল না, ১০ টাকা সের চাল খাওয়াব? বিনা মূল্যে সার দেব, ঘরে ঘরে চাকরি দেব। কিন্তু তার কোনটি বাস্তবায়ন করেছে তারা? আজকে ১০ টাকা কেজি চালের জায়গায় ৭০ টাকা কেজি চাল। ১২০ টাকা পেঁয়াজ। দেশের মানুষ কী খাবে তাহলে? লবণ দিয়ে ভাত খাওয়ারও উপায় নেই, এমন অবস্থায় চলে গেছে।’
আগে গোলাগুলি করে ব্যাংক ডাকাতি হতো, এখন বোঝা যায় না
সরকার এই আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এখন পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু পদ্মা সেতু এই আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। আর সেই সেতুতে ওঠার জন্য...একটি যদি জোড়াতালি দিয়ে বানায়, সেই সেতুতে কে উঠতে যাবেন না। অনেক রিস্ক (ঝুঁকি) আছে।’ ব্যাংক খাতে ডাকাতি হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তো এর আগে শুনেছিলাম ব্যাংক ডাকাতি হতো গুলি করে। আর এখন ব্যাংক ডাকাতি এমন সুপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে, কেউ টের পাচ্ছে না। পরে খবরের কাগজে আমরা দেখছি, জানছি কী সুন্দরভাবে ঠান্ডা মাথায় ব্যাংকগুলোর সব টাকা লুট করেছে। এগুলো কার টাকা? জনগণের টাকা। আওয়ামী লীগ এলেই কেন শেয়ারবাজারে ধস নামে? শেয়ার মার্কেটের টাকা কোথায় যায়?’
প্রধান বিচারপতির নিয়োগ বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কারণ এখনো মতলবটা তাদের ভালো নয়, সে জন্যই। কিন্তু মওদুদ সাহেব বলেছেন যে একদিনও নাকি খালি রাখা যায় না প্রধান বিচারপতির পদ। কাজেই আমরা বলতে চাই, হাসিনা যা চাইবে, সেটা না করলেই তাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। তার নামে মামলা হবে। তাকে জেলে যেতে হবে, অত্যাচারিত হতে হবে। যদি এক ব্যক্তি সবকিছু করে, তাহলে এক ব্যক্তির শাসন তো এ দেশে চলতে পারে না। এ জন্য তো এ দেশের মানুষ যুদ্ধ করেনি। এ দেশের মানুষ করেছিল যখন পাকিস্তানিরা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা দিচ্ছিল না। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যই তো এ দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছিল। কিন্তু সে অধিকার তারা (সরকার) কেড়ে নিয়েছে।’
জঙ্গি আ.লীগের সৃষ্টি
সরকার কথায় কথায় জঙ্গির ভয় দেখায় অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই আওয়ামী লীগ জঙ্গি সৃষ্টি করেছিল। জঙ্গিদের বড় বড় নেতা, শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই—সব তাদের আত্মীয়স্বজন। জঙ্গি তো তারা সৃষ্টি করেছে। কথায় কথায় কিছু হলেই জঙ্গির ভয় দেখায়। কিন্তু এই জঙ্গি আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গি নয়। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তিতে থাকতে চায়, তারা জঙ্গি হতে চায় না। কিন্তু তাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জঙ্গি বানানো হচ্ছে। বিদেশিদের কাছে জঙ্গি দেখানো হচ্ছে। দাড়ি-টুপিওয়ালা হলেই সে জঙ্গি হয়ে যায়।’
আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি দাবি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ডাকে দেশের ছাত্র, যুবক, সাধারণ মানুষ সবাই সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের সাহায্য করেছে, আমাদের লোকজনকে থাকার অনুমতি দিয়েছে, তাদের সে জন্য ধন্যবাদ। আমরা বন্ধু হিসেবে সব সময় মনে রাখব। কাজেই তাদের (ভারত) বন্ধুর মতো দেখতে চাই। আমরা ভালো সম্পর্ক চাই। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি। এটা দিয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান। যেটা দেওয়ার কথা ছিল আওয়ামী লীগের, তাদের নেতাদের দিয়ে সেধেও পারা যায়নি।’
পুলিশের দোষ নেই, তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে
পুলিশের কর্মকাণ্ড বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা তো শৃঙ্খলা মেনেই চলতে চাই। কিন্তু শৃঙ্খলা ভাঙেই তারা, আওয়ামী লীগ ভাঙে; তার লোকজনকে দিয়ে করায় এবং পুলিশকে প্রতিটি কাজে ব্যবহার করে। পুলিশ খারাপ নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ খারাপ করছে তাদের। পুলিশকে আমরা বলব, আপনারা জনগণের সেবক। এই দেশের মানুষ আপনাদের কাছে সবাই সমান। কী সরকারি দল, কী বিরোধী দল—সবার কথা আপনাদের চিন্তা করে সেভাবে আপনারা এগোবেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই কিংবা আপনাদের ওপর আমাদের কোনো রাগও নেই। আপনারা আপনাদের মতো কাজ করে যাবেন, কিন্তু আমি বলি—এই যে কথায় কথায় আমার ছেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়! আজও অনেক ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এই যে কথায় কথায় আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া, সেগুলো বন্ধ করেন। ঘরে ঘরে গিয়ে ছেলেদের ধরা, এগুলো বন্ধ করেন। আর যাদের জেলখানায় রেখেছেন, এখন তাদের ছেড়ে দিন।’
ছাত্রদল কীভাবে কর্মসূচি পালন করে তা দেখতে গোয়েন্দা নিয়োগ
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্রদের যেসব সমস্যা, সেসব বিষয়ে নিয়ে কাজ করতে হবে। কথা বলতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলতে হবে। বিদেশ থেকে ভালো ভালো ডিগ্রি নিয়ে এসেও অনেকে এখন চাকরি পায় না। বিএনপি শিক্ষিত বেকারদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করবে।
শুধু চেহারা দেখালে আর ছবি ওঠালে হবে না উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘১০-১২ জন লোক নিয়ে ছবি ওঠাল, আমি রাস্তায় ছিলাম-আমি আন্দোলনে ছিলাম—এগুলো আর চলবে না। আমরাও বিকল্প ব্যবস্থা করেছি। তোমরা কীভাবে চলছ, কর্মসূচিগুলো কীভাবে পালন করছ, সেগুলো দেখার জন্য আমরা গোয়েন্দা নিয়োগ করেছি। বিএনপি নেতৃবৃন্দও তার মধ্যে (নজরদারি) থাকবে। কেউ বাদ যাবে না।’
ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন প্রমুখ।
উৎসব নেই কক্সবাজার সৈকতে!!!!
বিদায় নিচ্ছে ২০১৭ সাল। আজ বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর। ‘থার্টিফাস্ট নাইট’ উদ্যাপনের জন্য এখন কক্সবাজার সৈকতে জড়ো হয়েছেন অন্তত দুই লাখ পর্যটক। কিন্তু প্রশাসনের কড়াকড়িতে এবার সৈকতে উন্মুক্ত স্থানে কোনো উৎসব নেই। ফলে বিকেলে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এ নিয়ে পর্যটকেরা হতাশ। অথচ গত বছর সৈকতে মধ্যরাত পর্যন্ত কনসার্টসহ নানা আয়োজন ছিল।
কেন উৎসবে নেই, এমন প্রশ্নে পুলিশ প্রশাসন সরাসরি কোনো কারণ বলছে না। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুয়ায়ী রাতে কোনো উৎসব করা যাবে না।
জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্র জানায়, সৈকতের কোথাও বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক উৎসব অথবা বিনোদনের কোনো আয়োজন থাকছে না। নিজস্ব অতিথিদের বিনোদনের জন্য তারকা হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্ট, ওশ্যান প্যারাডাইস ও রয়েল টিউলিপ হোটেলে পৃথক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। তবে সেখানে বাইরের লোকজনের অংশগ্রহণ সংরক্ষিত।
হোটেলের পরিচালক ও কক্সবাজার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিরাপত্তা সমস্যার কারণে থার্টিফাস্ট নাইটের আয়োজন সম্ভব হয়নি।
বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের জায়গা পেঁচার দ্বীপ সৈকতের ‘মারমেইড বিচ রিসোর্ট।’ ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শহরের লোকজন মারমেইডে জড়ো হন। কিন্তু এবার সেখানে তেমন আয়োজন নেই। গত বছর মারমেইডে বছরের শেষ দিনের রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল।
রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে বন্য হাতির প্রদর্শনী ছাড়া দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য আর কোনো আয়োজন তাঁদের নেই। এই রিসোর্টে বিদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন ২০ জনের মতো।
জেলা পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে কক্সবাজার সৈকতেও সন্ধ্যার আগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বিকেলে বা সন্ধ্যার আগে যেকোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান সৈকতে উৎসব আয়োজন করতে পারে। তবে শনিবার পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি বলে সৈকত ফাঁকা যাচ্ছে।
পুলিশ সুপার বলেন, এবার তিনটি তারকা হোটেলে থার্টিফাস্ট নাইট উৎসব হচ্ছে হোটেলে থাকা দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য। কিন্তু সেখানে বাইরের লোকজনের যাওয়া নিষেধ।
গতকাল শনিবার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, সৈকতে হাজারো পর্যটক। সৈকতে গোসলসহ নানা রাইডে চড়ে আনন্দে মেতেছে সবাই।
কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ পর্যটক এসেছেন থার্টিফাস্ট নাইট উৎসবে যোগ দিতে। রাজধানীর কমলাপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল হালিম (৪৫) বলেন, গত বছর সৈকতে দেশের তারকা শিল্পীদের গান শোনার সুযোগ হয়েছিল। আনন্দ-উল্লাসে পালন করেছিলাম বর্ষবরণ উৎসব। এবার কিছুই নেই।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, থার্টিফাস্ট নাইট উদ্যাপনের জন্য সৈকতে সমবেত হবেন অন্তত তিন লাখ পর্যটক। ইতিমধ্যে দুই লাখের বেশি পর্যটক এসে পৌঁছেছেন। শহরের চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউসে কোনো কক্ষ এখন খালি নেই।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও সন্ধ্যায় সৈকতে ভ্রমণে কোনো বাধা নেই। পর্যটকের নিরাপত্তায় ট্যুরিষ্ট পুলিশ রাতদিন কাজ করে চলেছে।
পাশ্চাত্যে ইসলামের আলো
হালের বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখেন, এমন যেকেউ খুব ভালোভাবেই জ্ঞাত আছেন যে বর্তমানে পশ্চিমা বেশির ভাগ মানুষ নিজেদের ধর্মকর্ম ও সভ্যতা-সংস্কৃতির প্রতি আস্থা-বিশ্বাস হারাতে বসেছে। তাদের মন-মানসিকতায় হানা দিয়েছে মানবিক মূল্যবোধ পতনের ঝোড়ো হাওয়া।
মনোজগতে সৃষ্টি হয়েছে নৈতিকতা ও সুস্থতার তীব্র হাহাকার। ভাঙনের সুর লেগেছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতির নির্মাণসৌধে। এর নেপথ্য কারণরূপে যা কাজ করছে, তা হলো ইসলাম ও মুসলমান। কারণ ইসলাম পবিত্র, শাশ্বত ও আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। ইসলামের সুমহান ন্যায়-নীতি, সাম্য-সম্প্রীতি, উদারতা, যুগোপযোগিতা, সামগ্রিক কার্যকারিতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সচেতন পশ্চিমারা ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে সত্যের নাগাল পেতে এবং ইসলামের সৌম্য-মোহন ছোঁয়ায় ঋদ্ধ হতে।
তাঁদের এ মহান ব্রতের মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হচ্ছে যে জীবনচলার পথে মানুষ পদে পদে যত বাধা-বিপত্তি ও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তার যথোপযুক্ত সমাধান ইসলামে রয়েছে।
পশ্চিমারা যতই ইসলামবিরোধী হোক, তারা যতই ইসলামফোবিয়া সৃষ্টি করুক, ইসলাম নিজ মহিমায় ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-দেশান্তরে। তৃষ্ণা নিবারণ করছে লাখো-কোটি তৃষিত হৃদয়ের। ষড়যন্ত্রের রূপ যত বিচিত্র ও অভিনব হোক, কিছুতেই থামানো যাবে না ইসলামের অভিযাত্রা, ইনশাআল্লাহ।
বহু অমুসলিম যখনই ইসলাম নিয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন, ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা লাভের চেষ্টা করেছেন, তখনই তাঁদের বেশির ভাগ ইসলামের সুমহান আদর্শে মোহিত হয়ে শান্তির সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। এর বাস্তব প্রমাণ অসংখ্য ও অগণিত। আনন্দের ব্যাপার হলো, কুণ্ঠচিত্তে হলেও খোদ কিছু পশ্চিমা মিডিয়া ইদানীং এর সাক্ষ্য দিচ্ছে। ক্রমেই এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট হচ্ছে, ইসলামে অলৌকিক আকর্ষণশক্তি রয়েছে। ইসলামের বিরোধিতা করে কেউ এর প্রচার-প্রসারে প্রতিবন্ধকতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে না। উল্টো হিতে বিপরীত হয়। ইসলামবিদ্বেষীরা ইসলামকে কলুষিত করার যেরূপ হীনচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ইসলামের পরিধিও তদরূপ পরিব্যাপ্তি লাভ করছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর আলোর পূর্ণতা দান করবেন। যদিও তা কাফিরদের কাছে অপ্রীতিকর লাগে। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩২)
পশ্চিমা মিডিয়ার কিছু রিপোর্টে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক—
আমেরিকার নিউজ চ্যানেল ‘সিএনএন’ (CNN)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী পুরো বিশ্বে অতি দ্রুত ও ব্যাপকতার সঙ্গে প্রসার হওয়া ধর্মের স্বীকৃতি পেয়েছে ইসলাম। ‘এনবিসি’ (NBC) রিপোর্ট দিয়েছে, ২০ হাজার আমেরিকান নারী-পুরুষ প্রতিবছর ইসলাম গ্রহণ করছে। ‘সিএনএস নিউজ’ (CNS News) তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইসলাম ইউরোপে অতিসত্বর সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মে পরিণত হতে চলছে। আরো বলা হয়েছে, জুমার নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসলমানদের সংখ্যা আগামী ৩৫ বছর পরে রবিবার চার্চে উপাসনা করতে আসা খ্রিস্টানদের চেয়ে দ্বিগুণে দাঁড়াবে। ২০৪৬ সালে জার্মানিতে ইসলাম বৃহত্তর মানবগাষ্ঠীর ধর্মে পরিণত হবে। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন মুসলিম দেশের অভিবাসন প্রত্যাশী হাজার হাজার নারী-পুরুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর কারণে মনে হয় আগামী ১০০ বছর পর ইউরোপ মুসলিম মহাদেশে পরিণত হতে চলেছে। ’ এটি অবশ্য তাদের ব্যক্তিগত মতামত। তবু ফেলে দেওয়ার মতো কথা নয়।
সিএনএস নিউজের নিবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রান্সে গত শতাব্দীতে চার্চের তুলনায় মসজিদই নির্মিত হয়েছে বেশি। ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হেরাল্ড’ (The Herald) লিখেছে, ‘ইউরোপে হাজার হাজার অমুসলিম নাগরিক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। ’ তারা আরো লিখেছে, ‘ব্রিটেনের বিখ্যাত শহর গ্লাসগোয় মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। প্রতিবছর ২০০ থেকে ৫০০ লোক ইসলাম গ্রহণ করছে। বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে জানা যায়, গত বছর চার হাজার জার্মান নারী-পুরুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। ’
আশ্চর্যের কথা হলো, পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ইসলাম গ্রহণকারীদের বেশির ভাগই নারী। যুক্তরাজ্যের ম্যাগাজিন ‘টাইমস’ (Times) জানিয়েছে, ‘আমেরিকান পুরুষদের তুলনায় নারীরা চার গুণ বেশি হারে ইসলাম গ্রহণ করছে। সুইজারল্যান্ডে গত কয়েক বছরে ৩০ হাজার নারী ইসলাম গ্রহণ করেছে। ’
অন্য একটি জরিপের মাধ্যমে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে যে সংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছে, গত বছর তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ১০ বছরে এক লাখ ব্রিটিশ নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং প্রতিবছর তাদের পাঁচ হাজারের ঊর্ধ্বে লোক ইসলাম গ্রহণ করছে।
গত ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে পাঁচ হাজার ২০০ ব্রিটিশ নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছে। যেখানে লন্ডনে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা এক হাজার ৪০০ জন। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় জনগণ, পুলিশ স্টেশন ও মসজিদগুলোর ওপর একটি জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে গত ১০ বছরে ইসলাম ব্যাপক হারে প্রসার লাভ করেছে।
গত ছয় বছরে ব্রিটেনে মুসলমানের সংখ্যা ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদের সংখ্যা এক হাজার ৫০০ পেরিয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ‘যুক্তরাজ্যের কারাগারগুলোয় বিপুলসংখ্যক কয়েদি ইসলাম গ্রহণ করছে। অনুরূপ স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও ইসলামপ্রীতি বাড়ছে খুব জোরেশোরে। এমনকি ছোট ছোট বাচ্চারাও বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারগুলোয় গিয়ে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
ব্রিটেনের একজন প্রতাপশালী সচিব জানিয়েছেন, ‘ব্রিটেনে খ্রিস্টানদের চার্চগুলো বন্ধ হওয়া আর মানুষের নৈতিকতাশূন্যতার পরিপূরক হতে পারে শুধু ইসলামই। ’ একটি রিপোর্টের শিরোনামই দেওয়া হয়েছে—‘গ্রেট ব্রিটেনে ইসলামের ব্যাপক প্রসারতা’। প্যারিস, রোম ও লন্ডনে মসজিদের সংখ্যা চার্চের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারগুলোতে কোরআনের অনূদিত কপি সর্বাধিক বিক্রীত গ্রন্থের তালিকায় গণ্য হচ্ছে। সেখানকার কারাগারগুলোয়ও খুব জোরেশোরে ইসলামের প্রচার হচ্ছে। বিভিন্ন কারাগারে কয়েদিদের বড় অংশ ইসলাম গ্রহণ করছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওয়েলস, আয়ারল্যান্ড এবং অন্য অঞ্চলগুলোয় খুব দ্রুত বিস্তারকারী ধর্মের স্বীকৃতি লাভ করেছে ইসলাম।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে ও মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ইসলাম ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মে পরিণত হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, ২০০১ সালে ইংল্যান্ডে খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল ৭২ শতাংশ, কিন্তু ২০১১ সালে এসে তাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯ শতাংশে।
২০১০ সালে সিএনএনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়, পাশ্চাত্যে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা বহুগুণ বেশি এবং এর ধারা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েই চলছে। গত ১২ বছরে আমেরিকায় এক হাজার ২০০-এরও বেশি মসজিদ নির্মিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১০০টি করে মসজিদ নির্মিত হচ্ছে।










