sponsor

sponsor

Slider

Categories

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Archive

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Author Details

Templatesyard is a blogger resources site is a provider of high quality blogger template with premium looking layout and robust design. The main mission of templatesyard is to provide the best quality blogger templates which are professionally designed and perfectlly seo optimized to deliver best result for your blog.

Breaking

Fashion

News

Food

Sports

Food

Technology

Featured

Sponsor

ads

Videos

Text Widget

Sample Text

Contact Form

Name

Email *

Message *

Categories

Breaking News

Popular

Responsive Ads Here

Popular Posts

Recent Tube

Business

Technology

Life & style

Games

Sports

Fashion

» » সিলেট বিমানবন্দরে ৮কেজি স্বর্ণ জব্ধ

সিলেট বিমানবন্দরে ৮কেজি স্বর্ণ জব্ধ


সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬০ পিস স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব স্বর্ণের ওজন প্রায় সাত কেজি বলে জানা গেছে।আজ বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়।ওসমানী বিমানবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তপন কান্তি তালুকদার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বুধবার বিকেলে দুবাই থেকে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট আসে ওসমানী বিমানবন্দরে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বিমানে তল্লাশী চালিয়ে ৬০টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়।তিনি জানান, এসব স্বর্ণের বারের ওজন প্রায় সাত কেজি।
স্মার্টফোনের নেশায়, মনের কোণে বাসা বাঁধছে নীরব ঘাতক

ই-বোলা, এইডস-এর মতোই একবিংশ শতকের বিজ্ঞানের সামনে নতুন দুর্লঙ্ঘ চ্যালেঞ্জ ‘নোমোফোবিয়া’। যাঁরা জানেন ভালো।

যাঁরা জানেন না, তাঁদের জন্য নামটিকেই শুধু একটু উল্টেপাল্টে লিখে ফেলাই যথেষ্ট, ‘নো মো বাইল ফো ন ফো বিয়া’।
যদিও বিষয়টিকে ‘নো স্মার্ট ফোন ফোবিয়া’ হিসেবেই দেখাচ্ছেন গবেষকেরা। এর ক্ষতিকারক প্রভাবে বড়রা তো ছাড় পাচ্ছেনই না, টিনএজার থেকে শিশুদের মধ্যেও অন্য কোনও বাহ্যিক কারণ ছাড়াই অকালে দেদারসে বাড়ছে ডিপ্রেশন (অবসাদ), উত্কন্ঠার (অ্যাংজাইটি) মতো মানসিক রোগ। যার জেরে বিশ্বের স্থান-কাল ভেদে খুদে থেকে টিনএজারদের মধ্যেও বাড়ছে আত্মহত্যা, আত্মহত্যার চেষ্টার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার সংখ্যা।

গত মাসে এমআইটি স্লোয়ান ম্যানেজমেন্ট রিভিউ-এ ইতালি এবং ফ্রান্সের দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে গবেষকরা কিছু শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে একটি দিন স্মার্টফোন ছাড়া রেখে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। দেখা গিয়েছিল, সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন ছাড়া থাকার সময়টিতে তাঁদের মধ্যে মানসিক অবসাদ এবং উৎকণ্ঠা বেড়ে যেত। যে অতিরিক্ত সময় তাঁরা পেয়ে যাচ্ছেন ওই দিন, তাতে তাঁরা কখন কী করবেন সেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে দৈনন্দিন রুটিনেও গোলমাল করছিলেন।

কেন এই মানসিক পরিবর্তন? দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দেখিয়ে দিয়েছেন, স্মার্টফোন সার্ফিং -এ অত্যধিক নেশার দরুণ কিছু স্থায়ী পরিবর্তন আসছে সংশ্লিষ্ট টিনএজারের মস্তিষ্কে। যার জেরে ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, এক্সেসিভ ইমপালসিভিটি, ইনসমনিয়ার মতো রোগের কবলে পড়ছেন তাঁরা।


রেডিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা কনফারেন্সে এক স্টাডি রিপোর্টে কোরিয় গবেষকদলের প্রধান হিউং সাক সিও জানিয়েছেন, ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) এর উন্নততর পরীক্ষা ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স স্পেকট্রোস্কোপি-র (এমআরএস) সাহায্যে তাঁরা দেখেছেন, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটে আসক্ত একদল টিনএজারের মস্তিষ্কে গামা অ্যামাইনো বিউটারিক অ্যাসিড (গাবা) এবং গ্লুটামেট -গ্লুটামাইন (জিএলএক্স) এর অনুপাত স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখনীয় পরিমাণে বদলে দেয়, যা মস্তিষ্কে তরঙ্গপ্রবাহের গতিকে স্বাভাবিকের থেকে অনেক ধীর করে দেয়।

গাবা দৃষ্টিশক্তি, মোটর নার্ভ নিয়ন্ত্রণ এবং একাধিক মস্তিষ্কজনিত কার্য, যেমন উদ্বেগ, বিচার-বিবেচনার সঠিক ক্রিয়াশীলতার জন্যে দায়ী। কোরিয় গবেষকদের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, স্মার্টফোনের নেশা না থাকা স্বাভাবিক টিনএজারের মস্তিষ্কের অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্সে গাবা এবং জিএলএক্স এর অনুপাত যা থাকে, নোমোফোবিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে তা থাকে কয়েকগুণ বেশি। বাড়তে থাকে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ। গাবার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ে ঝিমুনি, স্নায়ুবৈকল্য। একই সঙ্গে, গাবা ও ক্রিয়াটিন অনুপাত এবং গাবা ও গ্লুটামেট অনুপাতও স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যাওয়ায় শরীরে এসে ভিড় করে অনভিপ্রেত একাধিক উপসর্গ।

গবেষকদলের প্রধান হিউং সাক সিও জানিয়েছেন, তাঁদের গবেষণা এই বিষয়ে পথিকৃত হলেও ভবিষ্যতে আরও বড় সংখ্যক নমুনার উপর পরীক্ষা চালালে সঠিক ভাবে জানা যাবে, আদতে কতটা ক্ষতি করছে স্মার্টফোনের নেশা।

ক্ষমতায় গেলে ডা. মিলন হত্যার বিচার করব,এইচ এম এরশাদ।

বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে শহিদ ডা: শামসুল আলম মিলন হত্যার বিচার ফের ক্ষমতায় আসতে পারলে নিজেই করবেন বলে মন্তব্য করেছেন সেই সময়ের সামরিকশাসক এইচ এম এরশাদ।

আশির দশকের গোড়ায় সেনাপ্রধান হিসেবে ক্ষমতা দখলের পর তা দীর্ঘস্থায়ী করতে যে রাজনৈতিক দল গড়ে তুলেছিলেন সেই জাতীয় পার্টির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এরশাদ এই মন্তব্য করেন।  

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডা. মিলনকে কে হত্যা করেছে এখনো আমরা জানি না। একটু আগে মহাসচিব (রহুল আমিন পাটোয়ারী) ডিমান্ড করেছেন, আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, প্রথমে ডাক্তার মিলনের হত্যার বিচার আমরা চাব।’

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে আততায়ীর গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে নিহত হন ডা. মিলন।
 সেই সময় তিনি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনার কিছুদিন পরেই ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে তিনি প্রায় ছয় বছর কারাগারে ছিলেন


সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০১৮ 
  
শুরু হলো নতুন বছর। ২০১৮ সালটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছরের শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগে অন্তত সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন হবে। অর্থাৎ বছরজুড়েই আলোচনা-সমালোচনার ‘মধ্যমণি’ থাকবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের এই বছরে রাজনীতির মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বলে পরিচিত বিএনপির জন্য হবে ‘অনেক হিসাব মেলানোর’ বছর। সরকারি দলের চ্যালেঞ্জ হবে তাদের অধীনে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ও বিতর্কিত নির্বাচন না করা, বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে সংগঠিত হতে না দেওয়া।

আর বিএনপিকে সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করতে হবে। বিএনপির জন্য কাজটা অনেক কঠিন। কেননা, এই দাবিতে আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে দলটি। দলটি চাইছে চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামার। অবশ্য সেই আন্দোলনে যাওয়ার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো কেমন হবে, সেই নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থীদের অবস্থান কেমন হবে, এ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

নির্বাচনের বছরে নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে কী করতে হবে, সে ব্যাপারাটা অনেকটাই পরিষ্কার। তবে সব পক্ষকেই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পৃথক ভূমিকা থাকে। সব পক্ষ যখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়, কেবল তখনই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়। এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া কঠিন। তাঁর মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। তা না হলে সংকট থেকেই যাবে।

নাম না প্রকাশের শর্তে নির্বাচন কমিশনের দুজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর কমিশনের আস্থা বেড়েছিল। কিন্তু এরপর ১২৭টি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই আস্থায় কিছুটা হলেও চিড় ধরেছে। কেননা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এত বড় একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সুষ্ঠুভাবে করা আর একটি–দুটি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা এক নয়, এটা কমিশন বুঝতে পারছে। ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান খুব জরুরি।

ইসি সূত্র বলছে, বছরের শুরুতে জানুয়ারির মাঝামাঝি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা আছে। ফেব্রুয়ারির শেষে দিকে ভোট গ্রহণ হতে পারে। এরপর এপ্রিলে-মে মাসে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং বছরের মাঝামাঝি গাজীপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা আছে। আগস্টের পর আর কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে চায় না কমিশন। মূলত আগস্ট থেকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করার পক্ষে তারা।

সূত্র বলছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী তিন মাসের মধ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী নভেম্বরে মাঝামাঝি বা শেষ দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা আছে। কমিশন চলতি বছরের শেষ দিকে ভোট অনুষ্ঠানের পক্ষে। সরকারি দলও চলতি বছরের ডিসেম্বরের ভোট গ্রহণ চায়। যদিও অন্য দল এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ মনে করেন, একটি সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কমিশন ভালোভাবেই কাজ করছে। লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে সেই অনুযায়ী সব কাজ এগোচ্ছে। তাঁর মতে, কমিশন সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন করবে। এখানে কমিশনের ওপর কারো কোনো চাপ থাকার সুযোগ নেই, নিয়ন্ত্রণ আরোপেরও সুযোগ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ বলার মতো সময় এখনো আসেনি। এটি কমিশনের একেবারেই একক সিদ্ধান্তের ব্যাপার।





যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়েছেন । আহতরা হলেন, যশোর ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল কবির শিকদার, ওয়াপদা কারবালা এলাকার জেলা যুবলীগ নেতা রাজিবুল (৪২), একই এলাকার ইসহাকের ছেলে বিপ্লব (২৩) এবং চাচড়া রায়পাড়া এলাকার মুজিবর রহমানের ছেলে ইমান। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সদস্য রাজিবুল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে প্রবেশ করছিলাম. এ সময় কিছু লোক আমাদের উপর হামলা করে, এতে আমিসহ আমাদের মিছিলের অনেকেই ছুরিকাহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহি জানিয়েছেন, আমি শুনেছি একজন পকেটমারকে ধরে জনগণ গণধোলাই দিয়েছে।

পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন,ডোনাল্ড ট্রাম্প !
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এমন খবর প্রকাশ করেছে দ্য ইনডিপেনডেন্ট। পদত্যাগের করতে পারেন এমন কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রভাবশালী সদস্য ডায়ান ফাইনস্টাইন। মঙ্গলবার (মার্চ ২১) লস এঞ্জেলেস নগরীতে ট্রাম্প বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এক বিক্ষোভকারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন ডায়ান ফাইনস্টাইনকে। একজন বিক্ষোভকারী ডায়ান ফাইনস্টাইনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ট্রাম্পকে ঠেকাতে সিনেট আরও কার্যকরী ভূমিকা নিলো না কেন? এর জবাবে ডায়ান বলেন, খুব শিগগিরই তার পদত্যাগ করার প্রবল সম্ভাবনা আছে। বিক্ষোভকারী ফ্রেইনস্টেকে বলেন, ট্রাম্প রাশিযার সঙ্গে কাজ করছে এবং 

প্রতিদিন সাংবিধানিক নিয়ম ভঙ্গ করছেন। কিভাবে আমরা তাকে অফিস থেকে বের করতে যাচ্ছি?’ প্রশ্নটির জবাবে ফ্রেইনস্টেন বলেন, আমি নিজেও অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেছি উত্তর জানার জন্য। তবে তিনি আশা করছেন এই কাজটি তাদের করতে হবে না। ট্রাম্প নিজ থেকেই করবেন। আমি এ ব্যাপারে অনেক কিছুই জানি। কিন্তু তা এখনই প্রকাশ করতে পরছি না

মোবাইলে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, দেশের প্রত্যেকটি কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কারাবন্দীদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলাসহ বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। কারাবন্দীরা যাতে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মনে না করেন সে কারণে মোবাইল ফোনে কথা বলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দীদের সংশোধন ও পুর্নবাসনের জন্য নবনির্মিত গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রি এবং জামদানী উৎপাদন কেন্দ্র ‘রিজিলিয়ান্স’র উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্দীরা যাতে ভবিষ্যতে কর্ম জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেজন্য তাদেরকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে উদ্বোধন করা ‘রিজিলিয়ান্স’ কারাবন্দীরাই চালাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কারাগারেও এই সুবিধা সংবলিম্ব ইউনিট গড়ে তোলা হবে। কারাগারের ভেতরে মাদকসহ অবৈধ কোন জিনিস যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এজন্য কারারক্ষীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও গেইটে স্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীক, সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হক প্রমুখ।

মূদ্রাস্ফীতি,অসমতা মার্কিন সমাজে গোলযোগের সৃষ্টি 
আমেরিকার সাবেক কংগ্রেসম্যান রন পল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছরের শাসনামলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি এখন কল্পনার বস্তু। পাশাপাশি আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে; ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের যেভাবে পতন হয়েছে সেই একইভাবে আমেরিকার রাজনীতিরও পতন হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ‘ওয়াশিংটন এক্সামিনার’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে রন পল এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বিশাল ঋণের বোঝা, মূদ্রাস্ফীতি এবং অসমতা মার্কিন সমাজে ব্যাপক গোলযোগের সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সুস্পষ্ট করে বলেন, ১৯৮৯ সালে যেভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ধসে পড়েছে আমরা ঠিক অমন কিছুর মুখে রয়েছি। খবর : এএফপির।

রিপাবলিকান দলের সাবেক আইনপ্রণেতা ও টেক্সাসের গভর্নর রন পল বলেন, তিনি মনে করেন না তার দেশ ভেঙে কয়েকটি দেশ সৃষ্টি হবে তবে মার্কিন মুদ্রা নীতি ও বহির্বিশ্বে মার্কিন সাম্রাজ্যের অবসান ঘটবে। তিনি মার্কিন অর্থনীতিকে ফাঁপা অর্থনীতি বলেও মন্তব্য করেন এবং তা ধসে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করেন।

বিএনপিতে কোনো গণতন্ত্রের চর্চা নেই : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক 


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির ভিতরে কোনো গণতন্ত্রের চর্চা নেই। মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাবা ছেলের নাম ঘোষণা করে এটা কেমন গণতন্ত্র।

আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এই শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে দেখলাম বাবা (আব্দুল আওয়াল মিণ্টু) তার ছেলেকে (তাবিথ আওয়াল) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাবা বিএনপির নেতা, তিনি তার ছেলেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। যেই ছেলের নাম প্যারাডাইজ পেপারে এসেছে। বাবা ছেলের নাম ঘোষণা করে, এটা কেমন গণতন্ত্র? বিএনপিতে কোন গণতন্ত্র নেই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে হলে আমাদের মনোনয় বোর্ড থেকে নাম আসবে। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, হঠাৎ করে বলে দিলাম যে আওয়ামী লীগের সে প্রার্থী, এটা আমাদের দলে হবে না।  

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন ও গোলাম আশরাফ তালুকদার, কাজী মোর্শেদ কামাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আখতার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় অসুস্থ কোন্দলে জড়ালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ একটা বড় দল। বড় দলের কিছু কিছু সমস্যা থাকে। কিন্তু আমাদের দলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য্য হচ্ছে, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পার্টির সভাপতি। তাঁর নেতৃত্বে আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমাদের যদি কোন মেজর সমস্যা হয় এবং আমরা যদি ব্যর্থ হই তাহলে আমাদের সভাপতি হস্তক্ষেপে সমস্যা সমাধান হয়। আমাদের পার্টিতে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটতে আমরা দিচ্ছি না। আমাদের দলের একজন অন্যায় করবে শাস্তি পাবে না এটা হয় না।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে। কোন প্রার্থী আগ্রহ প্রকাশ করতেই পারে।কিন্তু দলীয় মনোনয়ন দেবেন আমাদের পার্টির সভাপতি শেখ হাসিনা সেটা মনোনয়ন বোর্ডের মাধ্যমে।

এমবাপ্পে রোনালদোকে হারাতে চান
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো তাঁর আদর্শ। ঘরের দেয়ালে কদিন আগেও বাঁধা ছিল পর্তুগিজ যুবরাজের ছবি।
সেই রোনালদোর সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। গত মৌসুমে মোনাকো থেকে তাঁকে রিয়াল মাদিদ্রে আনার আগ্রহ দেখায় স্প্যানিশ ঐতিহ্যবাহী দলটি। কিন্তু রিয়ালের বদলে প্রতিভাবান এই তরুণ বেছে নেন পিএসজি। মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিয়ালের সঙ্গে নিজের আলোচনা করার ব্যাপারটা লুকালেন না মোটেও, ‘এটা সত্যি যে কথা বলেছিলাম আমরা। আমি মনে করি এটা এখন রিয়াল ও আমার জন্য অতীত। পিএসজি আমার শহরের দল। মাদ্রিদের ছেলে হলে অবশ্যই সবার আগে রিয়ালে খেলার কথা ভাবতাম। নিজের শহরের সেরা দলে খেলতে চাইতাম সব সময়। ’
নিয়তি আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে প্রতিপক্ষও বানিয়েছে দুজনকে।
সেই ম্যাচে রোনালদোকে হারাতে বার্নাব্যু আসার কথা জানালেন এমবাপ্পে, ‘অবশ্যই রোনালদো আমার শৈশবের নায়ক। মাদ্রিদের ভেলদেবাবেসে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তিনি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী খেলোয়াড়। তবে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভালোবাসি। সব সময় চাই জয়, জয় আর জয়। আমরা ম্যাচটি জিততেই আসব বার্নাব্যুতে। ’ মার্কা




আমাদের রোজকার খাদ্য তালিকায় ডিম একটি অত্যন্ত্ম পুষ্টিকর খাবার। তবে কেউ কেউ ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে, রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ভয়ে কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ডিম খেতে চান না। কিন্তু এগুলো নিতান্ত্মই ভুল ধারণা। ছোট্ট একটি ডিম নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। আসুন জেনে নিই রোজ একটি ডিম খেলে কি কি উপকার পাওয়া যাবে।
ডিমের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। ডিমের ক্যারোটিনয়েড, লু্যটেন ও জিয়েক্সেনথিন চোখের ছানি কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। ছোট্ট একটি ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। এর ভিটামিন বি-১২ আমাদের গ্রহণকৃত খাবারকে শক্তিতে রূপান্ত্মরিত করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, যা পেশিকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। ডিমে সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের নাশতায় একটি ডিম খেলে সারাদিন আপনার ক্ষুধা কম হবে। তাই খাওয়াও হবে কম।

 গবেষণায় দেখা যায় শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়ায়। একটি ডিমে রয়েছে ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন বা ৭০-৮৫ ক্যালরি। যা রোজকার প্রোটিনের চাহিদার অনেকটা পূরণ করে। ডিমে রয়েছে আয়রন, জিংক, ফসফরাস। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে একটা ডিম খেলেও আপনার লিপিড প্রোফাইল কোনো প্রভাব পড়বে না। একটি ডিমে প্রায় ৩০০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। যা কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম, স্নায়ু, যকৃত ও মস্ত্মিষ্কের জন্য ভালো। চুল ও নখের মান উন্নত রাখতে নিয়মিত ডিম খান। ডিমের নানাবিধ গুণের কারণে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম রাখুন। সুস্থ থাকুন।









ঢাকার বাসাবাড়ি, অফিস-আদালতে সরবরাহ করা ৯৭ ভাগ জারের পানিতে ক্ষতিকর মাত্রায় মানুষ ও প্রাণীর মলের জীবাণু 'কলিফর্ম' পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) একদল গবেষক।
শাকসবজিতে কীটনাশক দূষণ, বোতলজাত ও জার পানিতে বিদ্যমান খনিজ উপাদানের মাত্রা ও গুণাগুণ নির্ণয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এমন 'ভীতিকর' তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ড. মনিরম্নল ইসলাম।

 জার পানির গবেষণায় ২৫০টি নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা; বিশেষ করে ঢাকার ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, চকবাজার, সদরঘাট, কেরানিগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, বাসাবো, মালিবাগ, রামপুরা, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা, এয়ারপোর্ট, ধানম-ি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, আশুলিয়া ও সাভার এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, সংগ্রহ করা নমুনাগুলোতে টোটাল কলিফর্মের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে যথাক্রমে ১৭ ও ১৬০০ এমপিএন (মোস্ট প্রবাবল নম্বর) এবং ফেকাল কলিফর্মের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল যথাক্রমে ১১ ও ২৪০ এমপিএন।
এলিফ্যান্ট রোড, চকবাজার, বাসাবো, গুলশান, বনানী থেকে পানির নমুনায় উলেস্নখযোগ্য মাত্রায় টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্মের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
সদরঘাট এলাকার নমুনা সবচেয়ে দূষণযুক্ত নির্দেশ করে; যেখানে সর্বোচ্চ টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্মের উপস্থিতির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৬০০ ও ২৪০ এমপিএন।
টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্ম পরিমাণ পানির সম্ভাব্য দূষণের পরিমাণ নির্দেশ করে। টোটাল কলিফর্ম পরিমাপে পানিতে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান এবং মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্রে উপস্থিত অণুজীব ও মলমূত্র দ্বারা দূষণের সম্মিলিত মান পাওয়া যায়।
আর ফেকাল কলিফর্ম পরিমাপের মাধ্যমে শুধু মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্র ও মলমূত্রের দ্বারা দূষণের মাত্রা নির্দেশিত হয়।
গবেষকদলের প্রধান মনিরম্নল ইসলাম বলেন, 'টোটাল কলিফর্ম কাউন্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না পানিতে উপস্থিত অণুজীব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কি না? সেজন্য পানিতে কলিফর্মের উপস্থিতি পাওয়া গেলে ফেকাল কলিফর্ম কাউন্ট করা অত্যাবশ্যক।
'পানিতে টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্মের পরিমাণ শূন্য থাকার কথা থাকলেও ৯৭ ভাগ জার পানিতে দুটোর উপস্থিতি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।'
স্বাস্থ্যঝুঁকি
মনিরম্নল ইসলাম বলেন, কলিফর্ম মূলত বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও প্রোটোজোয়ার মতো প্যাথোজেন সৃষ্টিতে উৎসাহ জোগায় বা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বিশেষ করে ই-কোলাই (কলিফর্ম গোত্রের অণুজীব) মানবদেহে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটব্যথা, জ্বর-ঠা-া, বমির মতো নানা উপসর্গ সৃষ্টির পাশাপাশি ক্রমাগত মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
সংক্রমণের মাত্রা বেশি হলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব মানুষের হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, 'এই রোগের কারণে ক্রমান্বয়ে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কিডনিতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে বস্নাড ট্রান্সফিউশন অথবা কিডনি ডায়ালাইসিস করার মতো অবস্থা দাঁড়ায়।"
এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত্ম হলে সাধারণত রোগের উপসর্গ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রতীয়মান হয় আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাত থেকে আট দিনও লেগে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
গবেষকদের মতে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) কর্তৃক মান নির্ধারণ করা থাকলেও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অবাধে চলছে দূষিত পানির ব্যবসা।
মনিরম্নল বলেন, 'সু্যয়ারেজ লাইনে ছিদ্রসহ বিভিন্নভাবে ওয়াসার পানিতে মলমূত্রের জীবাণু মিশে যায়। আর সেগুলো কিছুটা শোধন করে বা শোধন ছাড়াই জারের পানিতে বিক্রি করা হচ্ছে। সে কারণে জীবাণু থেকেই যাচ্ছে।'
ওয়াসার পানিতে কলিফর্ম থাকেই জানিয়ে তিনি বলেন, 'কেবল ফুটিয়ে খেলে সেই জীবাণু মুক্ত হতে পারে।'
মান ঠিক নেই বোতলজাত পানিরও
কেবল জারের পানিতে প্রাণঘাতী জীবাণুর উপস্থিতিই নয়, বাজারে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত পানিতেও বিএসটিআই নির্ধারিত মান না পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে এ গবেষণায়।
গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল বিশেস্নষণে দেখা যায়, প্রায় শতভাগ বোতলের গায়ে নির্দেশিত উপাদানসমূহের মাত্রায় অসামঞ্জস্যতা রয়েছে।
ড. মনিরম্নল বলেন, 'ফলাফল বিশেস্নষণে পানির স্বাদ নির্দেশকারী টিডিএসের পরিমাণ সর্বনিম্ন প্রতি লিটারে ৮ মিলিগ্রাম ও সর্বোচ্চ ২৮০ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে। বিডিএস স্ট্যান্ডার্ড অনুয়ায়ী টিডিএসের মাত্রা প্রতি লিটারে ৫০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত্ম গ্রহণযোগ্য।'

'না হয় ভোক্তারা এভাবে প্রতারিত হতেই থাকবে। আর ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা এ ধরনের পানি গ্রহণ থেকে দূরে থাকেন,' বলেন এই গবেষক।






২০১৪ বিশ্বকাপে ইনজুরি আক্রান্ত হওয়ার পর পিএসজি তারকার মনে হয়েছিল তার পা নেই
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সময়ের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার। দেশ ও ক্লাবের জার্সিতে সম্ভাব্য সব শিরোপাই জেতা হয়ে গেছে তার। শুধু বাকি স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০১৪ সালে নিজ দেশে সেমিফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। তবে এবার ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে চান ২৫ বছর বয়সী এই সুপারস্টার। এর আগে এক সাক্ষাতকারে ফরাসী ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) তারকা জানিয়েছেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইনজুরিতে পড়ে ভেবেছিলেন ক্যারিয়ারটাই শেষ হয়ে গিয়েছে!

গত বিশ্বকাপটা নেইমারের জন্য ছিল খুবই বেদনাদায়ক। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে পিঠে মারাত্মক চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েন। তার অনুপস্থিতিতে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের আঘাতে পিঠের হাড় যেভাবে ভেঙ্গে গিয়েছিল, নেইমার ভেবেছিলেন তার ক্যারিয়ারটাই শেষ হয়ে যাবে। চারদিকের সব কষ্টের সংবাদে তখন ভীষণ কেঁদেছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা ভাবলে এখনও খারাপ লাগে নেইমারের। পিএসজি তারকা এ প্রসঙ্গে বলেন, ওই ইনজুরিটা আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে মুহূর্ত ছিল। ওই সপ্তাহটায় আমি কেঁদেছিলাম। দেখেছি আমার মা আর বাবাও খুব কেঁদেছে। সবার খুব মন খারাপ ছিল, আমার বন্ধু এবং পরিবারের সবার। চোটটা এমন পর্যায়ে ছিল যে, একটা সময় নিজের ক্যারিয়ারটাকে শেষ বলেই ধরে নিয়েছিলেন নেইমার। এ বিষয়ে সাবেক বার্সিলোনা তারকা বলেন, চিকিৎসার সময়টায় আমি পা উঠাতে পারছিলাম না। নড়াতেও পারছিলাম না। আমি কান্না শুরু করেছিলাম কারণ এটা খুব বেদনাদায়ক ছিল। আমি কিছু অনুভব করতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল আমার পা নেই। ডাক্তাররা আমাকে স্টেডিয়ামের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তারা বলছিলেন, সুখবর হলো আপনি হাঁটতে পারছেন। তবে আপনার ফুটবল ক্যারিয়ারটা বোধ হয় শেষ। এরপর ঘরে বসে টিভিতে জার্মানির বিপক্ষে দলের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেছেন নেইমার। ওই ম্যাচটি নিয়ে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের আক্ষেপ। বলেন, আমি যদি ম্যাচটা খেলতে পারতাম এবং ৭-১ ব্যবধানে হারের পর চোটে পড়তাম! এই দগদগে ক্ষত এবার ভোলাতে চান নেইমার। রাশিয়া বিশ্বকাপে জিততে চান স্বপ্নের সোনার ট্রফি। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরমেন্স প্রদর্শন করেছে ব্রাজিল। রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সবার আগে বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করে। কোচ টিটে দলকে গড়ে তুলেছেন দুর্দান্তভাবে। একই পজিশনে একাধিক চৌকস খেলোয়াড় থাকায় আসছে বিশ্বকাপে হট ফেবারিট পেলের দেশ। তাই তো স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন নেইমারও। সাফল্যের পরিসংখ্যানে এমন অবস্থা ব্রাজিল মানেই সেরা হওয়া। ‘দ্বিতীয়’ হওয়াটাকেও দেশটি ব্যর্থতা হিসেবে মনে করে। ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ দুই পর ১৯৯৪ সালে আবারও বিশ্বকাপ জেতে জাগো বনিতোরা। আধুনিক যুগে এসে এসময় থেকেই মূলত দেশটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা তিন বিশ্বকাপে ১২ বছর বিস্ময়কর সাফল্য দেখায় ব্রাজিলিয়ানরা। এ সময়ের তিনটি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই ফাইনালে খেলে ব্রাজিল এবং দু’টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। এমন আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ব্রাজিল দল যেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। এ কারণেই ২০০৬ বিশ্বকাপে ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে জার্মানি পাড়ি জমায় লুই ফিলিপ সোলারির দল। এ সময় রোনাল্ডিনহোরা এতটাই ফর্মের তুঙ্গে অবস্থান করছিলেন যে বিশ্বকাপ জয় করা নিয়ে কোন সংশয় ছিল না। কিন্তু চূড়ান্ত লড়াইয়ে খেই হারিয়ে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। এরপর দলের দায়িত্ব দেয়া হয় ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গাকে।






 সারাদেশে ট্রেন যোগাযোগে আড়াই লাখ কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ চলছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। যুগান্তকারী এই পদক্ষেপ কার্যকর হলেই কয়েকটি স্থান ছাড়া প্রায় সারাদেশেই ট্রেনে যাতায়ত সম্ভব হবে। চারটি স্তরে প্রতিটি পাঁচ বছর মেয়াদী এই মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন করা হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। মোট ২৩৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে এই মাস্টারপ্লান বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলছে রেল মন্ত্রণালয়। এতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এর মধ্যে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ, সারাদেশে ডুয়েল গেজ রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ, বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে রেল সেতু নির্মাণ, যমুনা নদীর উপর বাহাদুরাবাদ-ফুলছড়ি এলাকায় আরেকটি রেল সেতু নির্মাণ এবং পদ্মা নদীর উপর আরও একটি রেল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এই ২০ বছর মেয়াদী এই মাস্টারপ্লানে।

এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রতি অর্থবছরে রেল যোগাযোগের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৪টি ধাপে এই মহাউন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমারা কাজ করে যাচ্ছি। এই মাস্টারপ্লান সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে ট্রেনে যাত্রীসেবা যেমন বাড়বে ও পণ্য পরিবহন সুযোগ পাবে ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এ্যান্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস হুদা চৌধুরী বলেন, এই উন্নয়নে তথা যাত্রী ও পরিবহন সেবা অক্ষুণ্ন রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এফবিসিসিআই অর্ন্তভুক্ত রেলের একমাত্র এই রেজিস্টার্ড প্রতিষ্ঠান। ২০৪ জন সরবরাহকারী ও আমদানীকারক প্রতি অর্থবছরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ৩৫ হাজার বিভিন্ন স্পেয়ার্স ও এক্সেসরিজ সরবরাহ করে আসছেন। রেলের তথা যাত্রী সেবায় এবং পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে আমদানীকারক ও সরবরাহকারীদের ভূমিকা রেল উন্নয়নের আরেক অংশীদার।

রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে, ২০ বছর মেয়াদী রেলের এই মাস্টারপ্লান যুগান্তকারী উন্নয়নের পদক্ষেপ। বর্তমান সরকারের আমলে গত সেশনে যেমন রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়নের গতিধারায় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তেমনিভাবে আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে রেলের উন্নয়নের গতিধারা আরও ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় রেল মন্ত্রণালয় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের মাস্টারপ্লান হাতে নিয়েছেন। এ মাস্টারপ্লানের আওতায় চলমান প্রকল্পসহ মোট ২৩৫টি প্রকল্প রয়েছে। বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াও সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর এই প্রথম কোন স্টিল অবকাঠামোর বৃহত্তম রেল সেতু নির্মাণ করল রেল কর্তৃপক্ষ। মেঘনা নদীর উপর তৈরি করা এই দ্বিতীয় ভৈরব সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮৪ মিটার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিস্তা নদীর উপর ২১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের তিতাস সেতু। এ দুটি স্টিল কাঠামোর সেতু ও সংযোগ রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৫৯ দশমিক ২০ কেটি টাকা। ২০২০ সালে আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই রেলপথে আরও দুই ঘণ্টা সাশ্রয় হবে এবং পুরোদমে এসব সেতুর ফলপ্রসূতা পাওয়া যাবে। গত ৯ নবেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতু দুটি উদ্বোধন করেন। ইরকন-এফকন’স জেভি এবং গ্যানন এফএলসিএফ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এই সেতুর ফাউন্ডেশন নির্মাণ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট এই সেতুর ফাউন্ডেশন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ।

নতুন এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ, ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর উপর বাহাদুরাবাদ-ফুলছড়ি রুটে আরেকটি রেল সেতু নির্মাণ, ১ হাজার ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর উপর আরেকটি রেল সেতু নির্মাণ, ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে রেল সেতু নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বৈদ্যুতিক রেলপথ চালু, খুলনা-পার্বতীপুরে ৮ হাজার ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ, আখাউড়া-সিলেটের মধ্যে ৭ হাজার কোটি টাকায় ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এই যুগান্তকারী মাস্টারপ্লান অনুযায়ী অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এছাড়াও রাজধানীর চারপাশে এলিভেটেড সার্কুলার রেলপথ নির্মাণ, জয়দেবপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ, বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ, সান্তাহার-বগুড়া-কাউনিয়া রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।
মহাজোট সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রেলের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। সে অনুযায়ী যাত্রীর সেবার মান বাড়ানোসহ চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে কন্টেইনারবাহী ওয়াগন বৃদ্ধির জন্য রেল মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ২০ বছর মেয়াদী এই মাস্টারপ্লান বাস্তবায়নের কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেল উন্নয়নে প্রথম ধাপের ৫ বছর মেয়াদী মাস্টারপ্লানে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রকল্প উন্নয়নে ১০৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া সরকারী অর্থায়নে ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও চলছে। তবে এছাড়াও বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে ৩৪টি প্রকল্প। ১০৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় ধাপের প্রকল্প ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের অর্থবছরে ৪৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেলের উন্নয়ন করার নক্সা রয়েছে। সরকারী অর্থায়নে এর মধ্যে ২৫টি প্রকল্প প্রায় ৯ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ও বৈদেশিক অর্থায়নে ২৩টি প্রকল্প ১৯ হাজার ১১৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বাস্তবায়িত হবে। এই ৪৮টি প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৮ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। তৃতীয় ধাপের মাস্টারপ্লান অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের অর্থবছরে ৩৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই প্যাকেজে ৪৩ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা এসব প্রকল্পে ব্যয় হবার সম্ভাবনা রয়েছে। চতুর্থ ধাপে মাস্টারপ্লান অনুযায়ী ২০২৬ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ বছরে আরও ৩৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৩৩ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানায় রেল মন্ত্রণালয় সূত্র।

২০ বছর মেয়াদী মাস্টারপ্লানে উন্নয়নের যে গতিধারা রয়েছে সে অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে চলমান প্রকল্পগুলো আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক, ভারতীয় ঋণ, জাপানী ঋণ মওকুফ সহায়তা তহবিল, কোরিয়ান ঋণ মওকুফ তহবিল ও অন্যান্য উন্নত দেশের আর্থিক সহায়তায় এই প্রকল্পগুলো। এছাড়া দেশীয় বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলে বিদেশী দাতা সংস্থাদের পাশাপাশি দেশীরাও ভূমিকা রাখবে। সরকার রেলের উন্নয়নে ও দেশব্যাপী রেল যোগাযোগ চালু করে জনগণকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।





কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপে ফেরত পাঠাতে এক লাখ রোহিঙ্গার একটি তালিকা করবে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্ট (বাস্তব ব্যবস্থা) সইয়েরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২৩ জানুয়ারির আগেই উভয় পক্ষ এটি সই করবে।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে প্রাথমিক একটি তালিকা করা হবে। যেসব রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক তাদেরকেই প্রথম তালিকায় রাখা হবে। প্রথম তালিকায় এক লাখ রোহিঙ্গার একটি ডাটাবেজ তৈরি করবে সরকার। এই তালিকা থেকে ভেরিফিকেশন করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে।

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের একটি ডাটাবেজ ইতোমধ্যেই তৈরি করেছে সরকার। এই ডাটাবেজে ৯ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিকের নাম ঠিকানা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে এখন ডাটাবেজ থেকেই একটি তালিকা তৈরি করা হবে। আর এই তালিকা থেকেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরু হবে। প্রথম দফায় এক লাখ রোহিঙ্গার একটি তালিকা তৈরি করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে আরও এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা তৈরি করা হবে। এভাবে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করে ফেরত পাঠানো হবে।

 গত ২৩ নবেম্বর নেপিডোয় উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আলোকে এই ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়। এখন উভয় দেশ ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্ট সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্ট সইয়ের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা ফেরতের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হবে। আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যেই ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্ট সই হবে। বাংলাদেশ ২৩ জানুয়ারির মধ্যেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আগ্রহী।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে, তার জন্য পৃথকভাবে একটি দলিলে সই করেছে উভয় পক্ষ। সাধারণত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের লক্ষ্যে এই ধরনের দলিলে সইয়ের প্রয়োজন হয় না। তবুও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষই এই দলিলে সই করেছে। এখন যৌথ কমিটি দ্রুত কাজ শুরুও করেছে। এখন মাঠ পর্যায়ে যাবতীয় বিষয়াদি তদারকি ও ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্টে সই করবে। এরপরই রোহিঙ্গাদের ফেরত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সূত্র জানায়, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ রোহিঙ্গাদের যাচাই বাছাই, সময় নির্ধারণ, পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়া, যোগাযোগ করা ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে বাস্তব অবস্থা যাচাই করে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্ট করবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আওতায় এই ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্ট সই হবে। ফিজিক্যাল এ্যারেঞ্জমেন্ট সই করতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। এছাড়া যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রয়োজনে একাধিক কমিটি গঠন করতে পারবে। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি সাব কমিটি গঠন করবে ওয়ার্কিং গ্রুপ।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে ঢাকায় এক বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। এই যৌথ গ্রুপ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেবে। দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ১৫ জন করে সদস্য নিয়ে মোট ৩০ সদস্যের এই গ্রুপ গঠন করা হয়।

 মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। সেনাবাহিনী অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শরণার্থীদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে গত ২৩ নবেম্বর নেপিডোয় দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অক্টোবর সেনা অভিযানের মুখে ৮৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আর চলতি বছর ২৫ আগস্টের পর নতুন করে বাংলাদেশে আসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জাতিগত দমন-পীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। বাংলাদেশের আহ্বানে ১৯৯২ সালে দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তির আওতায় মিয়ানমার কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নিলেও পরে আর সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি। এখন গত ২৩ নবেম্বর রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে নতুন করে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে ইয়াবার চালান দেশে আসে। আসার পথে কিংবা দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালান আটকের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর এই নেশাজাতীয় ট্যাবলেট। তা-ও আবার কারখানা স্থাপন করে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এমন একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

কারখানাটি থেকে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল, মেশিন ও আড়াই লাখ ইয়াবাসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছ চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। 
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-পশ্চিম) তথ্যের ভিত্তিতে ডবলমুরিং থানাধীন ব্যাপারীপাড়া কমিশনার গলি আবুল হোসেন সওদাগরের বাসায় অভিযান চালায়। পাঁচতলার ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে আড়াই লাখ ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঁদের কাছ থেকে তিনটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো লাল-গোলাপি রঙের ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল, তিনটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো সাদা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির পাউডার, ইয়াবা তৈরির দুটি মেশিন, ইয়াবা তৈরির চারটি স্টিলের ডাইস, দুটি প্রেশার মেশিন, একটি ডিজিটাল স্কেল ও একটি সাদা জারে ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত চার লিটার তরল গোলাপি রং উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শ্যামল মজুমদার ও মামুন হোসেন বলেন, তাঁরা স্থানীয় বাজার থেকে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল সংগ্রহ করে মেশিনে ইয়াবা তৈরি করতেন। গ্রেপ্তার হওয়া আরেক আসামি আবদুল্লাহ আল আমান চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব ইয়াবা বিক্রি করতেন। চার আসামির বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় মামলা হয়েছে।




















বাংলাদেশে ইয়াবার একটি বড় অংশ আসে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে। চাহিদার কারণে দেশেই ভেজাল ইয়াবা তৈরি শুরু হয়েছে। আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েও স্থাপন করা হয়েছে ইয়াবার কারখানা। মঙ্গলবার এমনি এক ভেজাল ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ ব্যাপারী পাড়ার কমিশনার গলির একটি বাসায় ভাইবোন পরিচয়ে ভাড়া নেওয়া হয়। বোনের দুটি সন্তানও রয়েছে। অন্য ভাড়াটেদের মতো বাসায় খাট, সোফাসহ প্রয়োজনীয় সব আসবাব রয়েছে। বাসায় দুটি শোয়ার ঘর। ব্যতিক্রম শুধু একটি শোয়ার ঘর। সেখানে খাট থাকলেও কেউ থাকেন না। পুরো কক্ষে ইয়াবা তৈরির যন্ত্র ও কাঁচামাল। সেখানেই তৈরি হতো ভেজাল ইয়াবা। ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ভেজাল ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো ভেজাল। দামেও কম। এক নারীসহ গ্রেপ্তার চার আসামিও বলছেন, দুই নম্বর ইয়াবা বলে তাঁরা পাইকারি বিক্রি করে। মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবার সঙ্গে এগুলো মিশিয়ে বাজারে খুচরা বিক্রি করা হয়। অভিযানে গোয়েন্দা পুলিশ ওই বাসা থেকে ইয়াবা তৈরির দুটি যন্ত্র, আড়াই লাখ ইয়াবা এবং ২০ লাখ ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করেছে।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবির তাঁর কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিটি ইয়াবা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু উদ্ধার করা ভেজাল ইয়াবাগুলো বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকায়। দামে কম থাকায় মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবার সঙ্গে এগুলো মিশিয়ে পাইকারি বিক্রেতারা বিক্রি করে থাকেন। মেয়াদোত্তীর্ণ প্যারাসিটামল এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, চক পাউডার, ট্যালকম পাউডার, গ্লুকোজ, বিশেষ ধরনের মোম কেমিক্যাল ও ভ্যানিলা পাউডার দিয়ে ভেজাল ইয়াবা তৈরি করা হয়।
বুধবার বিকেলে নগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই বাসা থেকে গ্রেপ্তার শ্যামল সাংবাদিকদের বলেন, ২০১২ সালে নগরের বাকলিয়া থানা-পুলিশের হাতে তিনি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিন বছর কারাভোগের পর আবার তিনি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। রাখাল নামের এক ব্যক্তির কাছে ইয়াবা তৈরি করা শেখেন। ইয়াবা তৈরি শেখার পর মাদারবাড়ি এলাকায় কারখানায় ইয়াবা তৈরির যন্ত্র বানান।  তিনি জানান, দৈনিক চার হাজার ইয়াবা তৈরি করেন। কাঁচামালগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করেন।
শ্যামলের কারখানায় তৈরি ইয়াবা বিক্রেতা আবদুল্লাহ আল আমান সাংবাদিকদের বলেন, বাজারে বিক্রি করার সময় বলা হয় ইয়াবাগুলো দুই নম্বর। বিশেষ করে পাইকাররা। ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে কখনো ক্রেতারা সরাসরি আসেন। আবার কখনো পাঠানো হয়। নিজের তৈরি এই ইয়াবা খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান। তারপরও কেন বাইরে বিক্রি করা হয় প্রশ্নের জবাবে বলেন, লাভ বেশি তাই।



ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় দুই নাগরিকের কাছ থেকে আড়াই কেজির বেশি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে দুবাই থেকে ঢাকামুখী এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই যাত্রীর কাছ থেকে এগুলো উদ্ধার করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
কাস্টম কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার করা ১২টি সোনার বারের ওজন ২ কেজি ৬২০ গ্রাম। বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি  টাকা।
কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ দলের প্রধান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমের একটি দল গ্রিন চ্যানেলে দুই যাত্রীকে শনাক্ত করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা নিজেদের কাছে সোনা থাকার কথা অস্বীকার করেন। এক্স-রে করে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাঁদের কটিদেশের নিচে (পায়ুপথ) সোনার বার লুকানো আছে। রাত ১১টার দিকে ঈশ্বর দাসের কাছ থেকে ১ কেজি ২৯৫ গ্রাম ও গুরজান সিংয়ের কাছ থেকে ১ কেজি ৩২৫ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে শুল্ক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।




প্রতীকী ছবি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মকর ইউনিয়নের গোপীনাথপুরের একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পের শ্রমিক ছিলেন তাকের আলী। কত দিনে, কী কাজ করলেন—জানতে চাইলে গোবিন্দপুর গ্রামের এই বাসিন্দা বললেন, রাস্তাটিতে মোট ১৭-১৮ দিন মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। পাশের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়। তিনিসহ ১৫-১৬ জন এ কাজ করেছেন। একজন শ্রমিকের দিনমজুরি ৩০০-৪০০ টাকা। তাকের আলীর হিসাব ধরলেও এই প্রকল্পে সোয়া লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়নি। অথচ কাবিটার (কাজের বিনিময়ে টাকা) এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৪১ টাকা। ঝিনাইদহের পাঁচটি ইউনিয়নে এ রকম ৬৪টি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রায় সব প্রকল্পেই বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে। এর একটি ইউনিয়নে ১৬টি প্রকল্পের একটিতেও কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়া হয়। বাকিগুলোতে নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। এলাকাবাসী বলেছেন, জনগণের স্বার্থে এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই বরাদ্দ জনগণের কাজে আসেনি। মূলত প্রকল্পগুলো ছিল সরকারি টাকা আত্মসাতের হাতিয়ার। বেশির ভাগ প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। কয়েকটি প্রকল্পে সভাপতি করা হয় তাঁদের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের। প্রকল্প সভাপতিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এলাকাবাসী কিছু বলার সাহস পান না। জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শুভাগত বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এখানে নতুন যোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। সদর উপজেলা পিআইওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে ঝিনাইদহ সদরের পাঁচটি ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের নামে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পাঁচটি চিঠিতে এই বরাদ্দের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলার কালীগঞ্জ, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলারও কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। সবই ছিল মাটির কাজ। সদর উপজেলার হরিশংকরপুর, পদ্মকর, ঘোড়শাল, ফুরসন্ধী ও নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় মাটির কাজ। বাকি ৫২টিই রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ। ৬৪ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৫ টাকা। এরপর একটি প্রকল্প কমিটি জমা হবে। তারপর কিছু টাকা সেই কমিটিকে দেওয়া হবে। এই টাকা হাতে পাওয়ার পর কমিটি কাজ শুরু করবে। কিছুটা কাজ করার পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবে। কাজ শেষে দেওয়া হবে বাকি টাকা। কাজই হয়নি হরিশংকরপুরে হরিশংকরপুর ইউনিয়নে ১৬টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৫২ টাকা। এই ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্প এলাকা ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাগুলোতে কোনো মাটির কাজই হয়নি। পানামী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনজুর আহম্মদ বলেন, তাঁর বাড়ি আর্য্য-নারায়ণপুরে। ওই গ্রামে রয়েছে দুটি প্রকল্প। প্রকল্প দুটি হলো ‘আর্য্য-নারায়ণপুর বটগাছ হইতে কাঁচার শেষ মাথা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও আর্য্য-নারায়ণপুর বটগাছ হইতে নারায়ণপুর ঈদগাহ হয়ে নদী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’। এ দুটি রাস্তায় বরাদ্দ রয়েছে ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬৬ টাকা ৪০ পয়সা। কিন্তু এ দুটি রাস্তায় সম্প্রতি কোনো মাটির কাজ হয়নি। আনুমানিক দুই বছর আগে সামান্য কিছু মাটির কাজ হয়েছিল। এখন এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। হুদা-বাকড়ি ভাগাড় থেকে খালের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তায় মাটির কাজের জন্য দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ২২ লাখ ২৫ হাজার ৮২৪ দশমিক ৮০ টাকা। ওই এলাকার বাসিন্দা বাবলুর রহমান বলেন, গত এক বছরে এই রাস্তায় এক ঝুড়ি মাটিও পড়েনি। রাস্তার পাশেই রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা নবের আলী শেখদের পারিবারিক কবরস্থান। নবের আলীও বলেন, এই রাস্তার কোনো কাজই হয়নি। তবে পাঁচ-ছয় বছর আগে একবার সামান্য কিছু কাজ হয়েছিল। এই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, একটি টাকার কাজও হয়নি এই রাস্তাটিতে। এলাকার মানুষ কষ্ট করে ফসল ঘরে তুলছেন। এই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য খন্দকার ইমামুল হোসেন বলেন, ওই দুই রাস্তায় ২২ লাখ টাকার বরাদ্দ হলেও ২২ টাকারও কাজ হয়নি। পরানপুর বিল্লালের বাড়ি থেকে পূর্ব বিলের মালেকের জমির কাছাকাছি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও পরানপুর শওকতের বাড়ির ব্রিজ থেকে মাঠের রফির জমি পর্যন্ত দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ২২ লাখ ২৫ হাজার ৮২৪ টাকা ৮০ পয়সা। এই গ্রামের বাসিন্দা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মোল্লা জানান, দুটি রাস্তার একটিতেও কোনো মাটি পড়েনি। চার-পাঁচ বছর আগে কিছু মাটির কাজ হয়েছিল।  এখানে ২৪টি প্রকল্পে ২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার ৬১১ টাকা বরাদ্দ হয়। ইউনিয়নের পূর্ব তেঁতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি ভরাটের প্রকল্পে বরাদ্দ ১১ লাখ ১২ হাজার ৯১২ টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির একটি নতুন ভবন ও ঈদগাহের সামনে সামান্য কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। মুনুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাটের প্রকল্পেও ১১ লাখ ১২ হাজার ৯১২ টাকা বরাদ্দ ছিল। বিদ্যালয়টির মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে সামান্য মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুনুড়িয়া গ্রামের সনৎ বিশ্বাস বলেন, এই স্কুলমাঠে মাটি দেওয়া হয়েছে ১২০-১৩০ ট্রাক। প্রতি ট্রাক মাটি আনতে খরচ হয় ৮০০-৯০০ টাকা। আবার মাটি ছিটিয়ে সেটা সমানও করা হয়নি। ফলে মাঠে কেউ খেলাধুলা করতে পারছে না। নারিকেলবাড়িয়া জেড এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাটে বরাদ্দ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৮ টাকা। সেখানেও কোনো রকমে মাটি ছিটানো হয়েছে। নারিকেলবাড়িয়া বটতলা থেকে কালীতলা পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৮ টাকা। ওই রাস্তায়ও সামান্য মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সব প্রকল্পেই এমন লোক দেখানো কাজ হয়েছে। মূলত বরাদ্দের টাকা পকেটে ভরতেই এমন প্রকল্প। তবে ঘোড়শাল ইউপির চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ বলেন, তিনি পরিমাণমতো কাজ করেছেন। তা ছাড়া প্রকল্প অফিস থেকে কাজ বুঝে নেওয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই প্রকল্প, কথাটি সঠিক নয়। পদ্মাকর ইউনিয়নে নামমাত্র কাজ পদ্মাকর ইউনিয়নে ছয়টি প্রকল্পে ৪৮ লাখ ২২ হাজার ৬২০ টাকা বরাদ্দ আসে। তিওরদাহ ত্রিমোহনী থেকে পূর্ব গোপীনাথপুর খাইরুলের বাড়ি পর্যন্ত পাকা রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৪১ টাকা। এলাকার কয়েকজন বলেন, রাস্তার পাশে জঙ্গল পরিষ্কারের পর মাটি কেটে সমান করে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইউনিয়নের খুলুম বেড়বাড়ি বটতলা বেড়বাড়ি শেষ সীমানা পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারকাজে বরাদ্দ হয় ১১ লাখ ১২ হাজার ৯১২ টাকা। এই রাস্তাতেও মাটি কেটে সমান করা হয়েছে মাত্র। কয়েক স্থানে রাস্তার পাশ থেকে মাটি কেটে ওপরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের রায়চরণ-তারিনীচরণ ডিগ্রি কলেজের আঙিনার কাছে গর্তে মাটি ভরাটের প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা মশিয়ার রহমান বলেন, ভেকু দিয়ে কিছু মাটি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ করা টাকার হিসাব করলে এটা কোনো কাজই নয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পদ্মাকর ইউপির চেয়ারম্যান নিজামুল গনির মুঠোফোন নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। নলডাঙ্গা ও ফুরসন্ধীতেও একই চিত্র নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামের দুটি প্রকল্পে ২২ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। বাগুটিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, সেখানে একটি ভেকু দিয়ে ১০-১২ দিন মাটি কাটার কাজ হয়েছে। রাস্তার পাশের মাটি কেটে রাস্তার ওপর ফেলা হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের তেমন কোনো উপকার হয়নি। উল্টো ভেকু দিয়ে মাটি কাটায় রাস্তার পাশে থাকা বেশ কিছু গাছ কাটা পড়েছে। একইভাবে এই ইউনিয়নের আড়মুখ গ্রামের দুটি প্রকল্পেও নামমাত্র কাজ হয়েছে। ফুরসন্ধী ইউনিয়নের জিথোড় মন্টুর বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই রাস্তায় কিছুটা কাজ হয়েছে। তবে তা বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম। একইভাবে মুক্তারামপুর ব্রিজ থেকে টিকারী বাজারের রাস্তায় বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকার। এখানেও সামান্যই কাজ হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বরাদ্দের পরিমাণ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, আগে থেকে বরাদ্দের পরিমাণ জানলে তাঁরা কাজ বুঝে নিতে পারতেন। জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এখানে কয়েক মাস আগে যোগ দিয়েছেন। কাজগুলো কীভাবে হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। ইউএনওকে প্রকল্পগুলো যাচাইয়ের জন্য বলবেন।

«
Next
Newer Post
»
Previous
This is the last post.

No comments:

Leave a Reply